বিতর সালাত আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। আর আমাদের সিদি মুহাম্মাদ ইকবাল বলেছেন যে, মালিকি ফিকহ এ কোন বিষয় যদি সুন্নাহ বলা হয় তা পালন করা আবশ্যকীয়। এর মূল কারণ হচ্ছে সকল সুন্নাহ মালিকি ফিকহ মতে নাফল এর অন্তর্ভুক্ত। আলাদাভাবে সুন্নাহ বললে তা অত্যাবশ্যকীয় সুন্নাহ হিসেবে প্রকাশ পায়।
‘ইশা সালাতের পর দুই রাকা’আত শাফ’উ (জোড়) সালাত নফলের ন্যায় আদায় করে নিতে হয়। এখন একটি বিষয়ে মতভেদ আছে যে, এই দুই রাকা’আতের আগেই বিতর এর নিয়ত করতে হবে অথবা যে কোন শাফ’উসালাতের পর এক রাকা’আত বিতর আদায় করা যাবে। কিন্তু বিতর সম্পূর্ণ হওয়ার জন্য শাফ’উ সালাত প্রয়োজন ও এটি আগে আদায় করতে হবে এবং এটিই মাযহাবের মুতামাদমত। শাফ’উ সালাতের পর এবং এক রাকা’আত বিতর সালাতের আগে সাধারণত অল্প সময় নেয়া যায় কিন্তু দীর্ঘ সময় নেয়ার ব্যাপারেও মত আছে যদিও তা শক্তিশালী নয়। সুবহ(ফযর) সালাতের আগ পর্যন্ত বিতর সালাত আদায় করা যায়।
এই শাফ’উ নফল সালাত যতবার ইচ্ছা দুই রাক’আত করে আদায় করা যায় কিন্তু সর্বনিম্ন শাফ’উ সালাত দুই রাকা’আতই হতে হবে। উল্লেখ্য, রাতের নফল সালাতে কিরা’আত জোরে পাঠ করা এবং দিনে আস্তে পাঠ করা মুস্থাহাব। চাইলে দিনেও জোরে পাঠ করা যায় কিন্তু ইবন আল-হাজিব এর মতে এটি মাকরুহ।
যেসকল সূরা পাঠ করা শাফ’উ এবং বিতর সালাতে মুস্তাহাব-
১। প্রথম রাকা’আতে সূরা ফাতিহা এবং সূরা ‘আলা।
২। দ্বিতীয় রাকা’আতে সূরা ফাতিহা এবং সূরা কাফিরুন।
৩। বিতর এক রাকা’আত সালাতে সূরা ফাতিহা এবং সূরা ইখলাস এবং মু’আউইযাতাইন (সূরা ফালাক এবং সূরা নাস) একসাথে পড়া।
৪। অন্য সূরা পাঠ করলেও কোন সমস্যা নেই কিন্তু উপরের সূরাসমূহ পাঠ করা প্রশংসনীয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: মালিকি ফিকহ মতে বিতর সালাতে কোন অতিরিক্ত তাকবিরের এবং কুনুত এর প্রয়োজনীয়তা নেই।
উৎস- রিসালাহ, ইবন আবি যাইদ, মাতন আল-আশমাউইয়্যাহ, আব্দুল বারী আল-আশমাউই।