জিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশদিনের আমল নিয়ে অনেকেই জিজ্ঞেস করেছেন। মালিকি মাযহাবের আদলে জিলহাজ্জ মাসের আমল ও বাদবাকি আনুসাংগিক বিষয় নিয়েই এই পোস্ট।
জিলহাজ্জ মাস মুসলমানদের কাছে অতিগুরুত্বপূর্ণ কারণ এই মাসে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ দিন আছে। তাই এই মাসের কিছু আমলও গুরুত্বপূর্ণ।
জিলহাজ্জ মাসের আমলসমূহঃ
১। আরাফাতের দিন রোজা রাখা। তাই সেদিন রোজা রাখতে হবে।
২। আরাফাতদের দিনের পূর্বের দিনগুলোতে কেউ চাইলে রোজা রাখতে পারেন এতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু এই দিনগুলোর জন্য আলাদা রোজা, কিয়াম বা অন্য কোন এক্সট্রা আমল মালিকি ফিকহে নেই।
৩। নখ, চুল, দাঁড়ি ইত্যাদি কাটা যাবে তবে যারা হজ্জে যাবেন বা গিয়েছেন তারা বাদে। নখ, চুল, দাঁড়ি না কাটার হুকুম হাজীদের জন্য খাস।
৪। কুরবানি দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ, তবে ওয়াজিব নয়। কারো সামর্থ্য থাকলে তিনি কুরবানি দিবেন এটাই উত্তম। এই সম্পর্কিত বিস্তারিত পোস্টের লিংক কমেন্টে দেওয়া হবে।
৫। ঈদের দিন যুহর থেকে শুরু করে পরবর্তী ১৫ টি ফরজ নামাজ শেষে ৩ বার করে তাকবীর (আল্লাহু আকবার) দিতে হবে যা তাকবিরে তাশরিক নামে পরিচিত। অর্থাৎ ঈদের দিন যুহরে শুরু হয়ে ঈদের চতুর্থ দিন ফজরে তাকবীর শেষ হবে। প্রতি ফরজ নামাজ শেষে ৩ বার করে আল্লাহু আকবার উচ্চস্বরে পড়তে হবে। এটা খুবই উত্তম আমল এবং মালিকি ফিকহে এই আমল মানদূব হিসেবে গৃহীত হয়।
এগুলো ছাড়া আলাদা কোন বিশেষ আমল মদীনাবাসীদের আমল থেকে আমরা পাই না। উত্তম হলো নিয়মিত ভাবে কিছু ব্যক্তিগত নফল আমল করে যাওয়া। আল্লাহ এই পবিত্র মাসে আমাদের মধ্যে যারা হজ্জ করতে গিয়েছেন তাদের হজ্জ কবুল করুন, আরাফাতের রোজা ও কুরবানি সহ বাদবাকি আমল যা আছে তা করার তৌফিক দিন। আমিন।
তথ্যসূত্রঃ সিদি মুহাম্মাদ ইকবালের সাথে ব্যক্তিগত আলাপ থেকে অনুবাদ।