“লায়লাতুল নিসফ মিন শাবান” বা যা আমাদের কাছে শবে বরাত নামে বহুল প্রচলিত। এই বিষয়ে আমরা জানতে চাই আমাদের উস্তাদ বর্তমান সময়ের প্রখ্যাত মালিকি আলেমে দ্বীন সিদি মুহাম্মাদ ইকবাল আল মালিকি হাফিজাহুল্লাহ-এর কাছে। সিদির আলোচনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরছি এই লেখায়।
কুরআন থেকে মধ্য শাবানের রাতের ব্যাপারে কোন আলাপ পাওয়া যায় না। সূরা দুখানের ৩য় আয়াতে বলা হয়েছে, “নিশ্চয় আমরা এটা নাযিল করেছি এক মুবারক রাতে”, এখানে মুবারক রাত বা লায়লাতি মুবারাকা বলতে বুঝানো হয়েছে সেই রাতে যে রাতে কুরআন নাযিল হয়েছে। আর এটা জমহুরের মত যে কুরআন নাযিল হয়েছে লাইলাতুল কদরে। যা সূরা কদরেও আল্লাহ স্পষ্ট করেছেন। কিছু শায মত পাওয়া যায় এই রাতকে শবে বরাতের রাত বলার ব্যাপারে কিন্তু তা জমহুরের কাছে অগ্রহণযোগ্য। অর্থাৎ কুরআন থেকে শবে বরাত প্রমাণিত না।
এবার যদি আমরা সুন্নাহ বা খায়রুল কুরুনের যুগে নজর দেই তাহলে দেখবো রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাদানী জীবনের ১০ বছরে এই রাতে কখনোই সেরকম কোন আমলের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। পাওয়া যায় না খুলাফায়ে রাশেদীনের ৩০ বছর বা সাহাবীদের থেকেও কোন নির্দিষ্ট আমল। পরবর্তী মাদানী তাবেঈ ও তাবে তাবেঈদের মধ্যেও সেরকম কিছু প্রচলিত ছিলো না। তবে মদীনার বাইরে শামসহ কিছু অঞ্চলে কিছু প্রখ্যাত তাবেয়ী এ রাতে আমল করতে উৎসাহিত করতেন। কিন্তু তারা কোন ধরাবাঁধা নিয়ম দিয়ে দেন নি। যে যার সুযোগ সুবিধা বা সাধ্যমত ব্যক্তিগত বা দল বেঁধে আমল করতো।
হাদীসের আলাপে আসলে শবে বরাতের ব্যাপারে সম্পূর্ণ সহীহ কোন বর্ণণা পাওয়া যায় না। সামান্য কিছু বর্ণণা পাওয়া যায় যার সর্বোচ্চ ২-১ টা হাসান পর্যায়ের। কিন্তু এসব হাদীসেও কোন নির্দিষ্ট আমল বা কাজের কথা উল্লেখ নেই। মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ-থেকে বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ হয়েছে এই রাতে আল্লাহ বান্দার দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকান, কিন্তু কোন আমলের কথা নেই বা মুয়াজ রাঃ-এর জীবন থেকেও আমরা এই রাতে কোন আমলের নজির পাই না।
তাহলে আমাদের কি করা উচিত? আল্লাহ প্রতি রাতেই তাঁর বান্দাদের ডাকতে থাকেন, তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন, তাঁর দিকে ফিরে আসতে বলেন, তাঁর কাছে মনোবাসনা জানাতে বলেন? এই সুযোগ তো প্রতি রাতেই আসে। তাই আমাদের উচিত নিজেদের আমলের ব্যাপারে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। প্রতিদিন অল্প করে হলেও নিয়মিত কিছু নফল আমল যেমনঃ তাহাজ্জুদ, দুহার সালাত, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি জারি রাখা। এক রাত অনেক আমল করার জন্য ফেলে না রেখে প্রতিদিন নিয়ম করে নির্দিষ্ট আমল করে যাওয়াটাই সুন্নাহ।
শবে বরাতের আমলের চর্চাটা পরবর্তীতে সুফীদের হাত ধরে আমাদের মধ্যে প্রবেশ করেছে। কিন্তু সুফীরা তাদের নির্দিষ্ট আমল নিয়মিত চালিয়ে যেতেন সেইসাথে এই রাতে কিছু এক্সট্রা আমল করতেন কিন্তু আমরা সেই চর্চা থেকে নিয়মিত আমল বাদ দিয়ে এক্সট্রা আমলে মনোযোগ দিয়েছি।
তবে কেউ যদি শবে বরাত উপলক্ষ্যে কোন আমল করে, ব্যক্তিগত বা দলগত ভাবে কোন ইবাদত করে এতে বাঁধা দেওয়ার কিছু নেই। সেই সাথে ভালো খাবার খেয়ে, বাসা সাজিয়ে উদযাপনের ব্যাপারেও কিছু বলা উচিত না যদি না কেউ এটাকে ইবাদত হিসেবে নেয়। সংস্কৃতি হিসেবে এটা চলতে পারে, ইবাদত হিসেবে না।
আল্লাহ আমাদের নিয়মিত আমল করার তৌফিক দিন ও দ্বীনের পথে থাকার তৌফিক দিন।
আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলে মুহাম্মাদ।