সালাতে সাদল করা (হাত ছেড়ে দাঁড়ানো)র দলিলগুলো

 

মালিকী মাযহাবে সালাতে হাত ছেড়ে দাঁড়ানো বা সাদল করা অন্যতম একটি আমল যা মালিকী মাযহাবের আমলে কিছুটা ভিন্নতা আনে। অপরাপর সুন্নী মাযহাবগুলো সাধারণত সাদলের আমল করে না। আজ এই সম্পর্কিত কিছু দলিল পেশ করবো।
 
রসূল (সাঃ) এঁর যুগে সাদলঃ কিছু দলিল
১/ আবূ হুমাইদ সাইদী (রাঃ) এঁর বর্ণিত হাদীসঃ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، – وَهَذَا حَدِيثُ أَحْمَدَ قَالَ – أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ، – يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ – أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا حُمَيْدٍ السَّاعِدِيَّ، فِي عَشْرَةٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ أَبُو قَتَادَةَ قَالَ أَبُو حُمَيْدٍ أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِصَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ قَالُوا فَلِمَ فَوَاللَّهِ مَا كُنْتَ بِأَكْثَرِنَا لَهُ تَبَعًا وَلاَ أَقْدَمَنَا لَهُ صُحْبَةً ‏.‏ قَالَ بَلَى ‏.‏ قَالُوا فَاعْرِضْ ‏.‏ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ يَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ ثُمَّ يُكَبِّرُ حَتَّى يَقِرَّ كُلُّ عَظْمٍ فِي مَوْضِعِهِ مُعْتَدِلاً ثُمَّ يَقْرَأُ ثُمَّ يُكَبِّرُ فَيَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ ثُمَّ يَرْكَعُ وَيَضَعُ رَاحَتَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ ثُمَّ يَعْتَدِلُ فَلاَ يَصُبُّ رَأْسَهُ وَلاَ يُقْنِعُ ثُمَّ يَرْفَعُ رَأْسَهُ فَيَقُولُ ‏”‏ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ يَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ مُعْتَدِلاً ثُمَّ يَقُولُ ‏”‏ اللَّهُ أَكْبَرُ ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ يَهْوِي إِلَى الأَرْضِ فَيُجَافِي يَدَيْهِ عَنْ جَنْبَيْهِ ثُمَّ يَرْفَعُ رَأْسَهُ وَيَثْنِي رِجْلَهُ الْيُسْرَى فَيَقْعُدُ عَلَيْهَا وَيَفْتَحُ أَصَابِعَ رِجْلَيْهِ إِذَا سَجَدَ وَيَسْجُدُ ثُمَّ يَقُولُ ‏”‏ اللَّهُ أَكْبَرُ ‏”‏ ‏.‏ وَيَرْفَعُ رَأْسَهُ وَيَثْنِي رِجْلَهُ الْيُسْرَى فَيَقْعُدُ عَلَيْهَا حَتَّى يَرْجِعَ كُلُّ عَظْمٍ إِلَى مَوْضِعِهِ ثُمَّ يَصْنَعُ فِي الأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ إِذَا قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ كَمَا كَبَّرَ عِنْدَ افْتِتَاحِ الصَّلاَةِ ثُمَّ يَصْنَعُ ذَلِكَ فِي بَقِيَّةِ صَلاَتِهِ حَتَّى إِذَا كَانَتِ السَّجْدَةُ الَّتِي فِيهَا التَّسْلِيمُ أَخَّرَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَقَعَدَ مُتَوَرِّكًا عَلَى شِقِّهِ الأَيْسَرِ ‏.‏ قَالُوا صَدَقْتَ هَكَذَا كَانَ يُصَلِّي صلى الله عليه وسلم ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি আবূ হুমায়িদ আস-সাঈদী (রাঃ) কে দশজন সাহাবীর উপস্থিতিতে- যাঁদের মধ্যে আবূ কাতাদাহ (রাঃ) ছিলেন- বলতে শুনেছিঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সলাত সম্পর্কে আমি আপনাদের চেয়ে অধিক অবগত। তাঁরা বললেন, সেটা আবার কিভাবে? আল্লাহর শপথ! আপনি তো তাঁর অনুসরণ ও সাহচর্যের দিক দিয়ে আমাদের চেয়ে বেশি অগ্রগামী নন। তিনি বললেন, হ্যাঁ। এরপর তারা বললেন, এখন আপনি আপনার বক্তব্য পেশ করুন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতে দাঁড়ানোর সময় নিজের দু’ হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠিয়ে আল্লাহু আকবার বলে পূর্ণরূপে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন এমনকি প্রতিটা হাড় স্ব স্ব স্থানে ফিরে যেতো। এরপর ক্বিরাআত পড়ে তাকবীর বলে রুকু‘তে গমনকালে স্বীয় দু’ হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন। তারপর রুকু‘তে গিয়ে দু’ হাতের তালু দ্বারা হাটুদ্বয় দৃঢ়ভাবে ধরে রাখতেন। রুকু‘তে তাঁর মাথা পিঠের সাথে সমান্তরাল থাকতো। এরপর রুকু‘ হতে মাথা উঠিয়ে “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্‌” বলে তিনি স্বীয় দু’ হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। তারপর আল্লাহু আকবার বলে তিনি সাজদাহ্‌য় যেতেন, সাজদাহ্‌তে বাহুদ্বয় স্বীয় পাঁজরের পাশ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতেন। তারপর সাজদাহ্‌ হতে মাথা উঠিয়ে বাম পা বিছিয়ে তাতে সোজা হয়ে বসতেন এবং সাজদাহ্‌কালে স্বীয় পায়ের আঙ্গুলগুলি ফাঁকা করে রাখতেন। এরপর আবার সাজদাহ্‌য় যেতেন এবং আল্লাহু আকবার বলে সাজদাহ্‌ হতে মাথা উঠিয়ে বাম পা বিছিয়ে তাতে সোজা হয়ে বসতেন, এমনকি প্রতিটি হাড় স্ব স্ব স্থানে ফিরে যেত। এরপর পরের রাক‘আতও অনুরূপভাবে আদায় করতেন। অতঃপর যখন দু’ রাকাত শেষে (তৃতীয় রাক‘আতের জন্য) দাঁড়াতেন তখন তাকবীর বলে দু’ হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন, ঠিক যেমনটি করতেন সলাত আরম্ভকালে তাকবীর বলে। অতঃপর এভাবেই তাঁর অবশিষ্ট সলাত আদায় করতেন। অতঃপর শেষ রাক‘আতে স্বীয় বাম পা ডান পাশে বের করে বাম পাশের পাছার উপর ভর করে বসতেন। তখন তারা সকলেই বললেন, হ্যাঁ, আপনি ঠিকই বলেছেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এভাবেই সলাত আদায় করতেন।
হাদীসের মানঃ সহীহ , হাদীসটি এসছে আবূ দাউদ (৭৩০,৭৩১,৭৩৩) সুনানে ইবনে মাজাহ ৮৬২-৬৩, তিরমিযী ৩০৪,৩০৫, ১০৬১
হাদীসটিতে সালাতের ফারদ্ব, সুন্নাহ ও মানদুবাতের কথা থাকলেও কবদ্বের কথা নেই। আবার হাড়সমূহ স্ব স্ব স্থানে ফিরে আসতো দ্বারাও সাদল সাবিত হয়। এখানে অন্যান্য সাহাবা থাকা সত্ত্বেও কিন্তু আবূ হুমাইদ সাইদী (রাঃ)কে কেউ কবদ্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেননি।
২/ উক্ববা ইবনু আমির আল আনসারী (রাঃ) এঁর হাদীসঃ
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ سَالِمٍ الْبَرَّادِ، قَالَ أَتَيْنَا عُقْبَةَ بْنَ عَمْرٍو الأَنْصَارِيَّ أَبَا مَسْعُودٍ فَقُلْنَا لَهُ حَدِّثْنَا عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ بَيْنَ أَيْدِينَا فِي الْمَسْجِدِ فَكَبَّرَ فَلَمَّا رَكَعَ وَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ وَجَعَلَ أَصَابِعَهُ أَسْفَلَ مِنْ ذَلِكَ وَجَافَى بَيْنَ مِرْفَقَيْهِ حَتَّى اسْتَقَرَّ كُلُّ شَىْءٍ مِنْهُ ثُمَّ قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقَامَ حَتَّى اسْتَقَرَّ كُلُّ شَىْءٍ مِنْهُ ثُمَّ كَبَّرَ وَسَجَدَ وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى الأَرْضِ ثُمَّ جَافَى بَيْنَ مِرْفَقَيْهِ حَتَّى اسْتَقَرَّ كُلُّ شَىْءٍ مِنْهُ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَجَلَسَ حَتَّى اسْتَقَرَّ كُلُّ شَىْءٍ مِنْهُ فَفَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ أَيْضًا ثُمَّ صَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ مِثْلَ هَذِهِ الرَّكْعَةِ فَصَلَّى صَلاَتَهُ ثُمَّ قَالَ هَكَذَا رَأَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي ‏.
সালিম আল-বার্‌রাদ থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, একদা আমরা ‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমির আল-আনসারী (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে তাঁকে বললাম, আমাদেরকে রসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত সম্পর্কে অবহিত করুন। তখন তিনি আমাদের সামনে মাসজিদে দাঁড়ালেন এবং আল্লাহু আকবার বলে সালাত আরম্ভ করলেন। তিনি রুকূ’তে স্বীয় দু’হাত দু’হাঁটুর উপর রাখেন এবং তাঁর আঙ্গুলগুলো হাঁটুর নীচের অংশে রাখেন আর দু’হাতের কনুইদ্বয় ফাঁকা রাখেন, এমতাবস্থায় শরীর স্থির হয়ে যায়। এরপর তিনি ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্‌’ বলে সোজা হয়ে দাঁড়ান। অতঃপর আল্লাহু আকবার বলে সাজদাহ্‌তে যান এবং দু’হাতের কনুইদ্বয় ফাঁকা রেখে এমনভাবে সাজদাহ্‌ করেন যে, তাঁর সমস্ত শরীর স্থির হয়ে গেলো। অতঃপর সাজদাহ্‌ থেকে মাথা উঠিয়ে স্থিরভাবে বসেন। তিনি আরো এক রাক‘আত অনুরূপভাবে আদায় করেন। এভাবে তিনি চার রাক‘আত সালাত আদায় করার পর বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এভাবেই সালাত আদায় করতে দেখেছি।
হাদীসের মানঃ সহীহ। হাদীসটি এসছে নাসাই (১০৩৮), সুনানে আবি দাউদ (৮৬৩), মুস্তাদারাকে হাকিম (১/২২৪), আত তিয়ালিসী (৬২০), তাবারানী (৬৬৮), আল আওসাত (২৬৮৬), আহমাদ (১৭০৭৫), মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা (২৯৬২), বাইহাক্বী (২/১২৭)
এখানেও অন্যান্য মানদুবাত ও সুন্নাতের কথা আছে, কিন্তু কবদ্বের কথা নেই।
৩/ রিফায়া ইবনু রাফি’ই (রাঃ) এঁর হাদীসঃ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَلِيِّ بْنِ يَحْيَى بْنِ خَلاَّدِ بْنِ رَافِعٍ الزُّرَقِيِّ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَمَا هُوَ جَالِسٌ فِي الْمَسْجِدِ يَوْمًا قَالَ رِفَاعَةُ وَنَحْنُ مَعَهُ إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ كَالْبَدَوِيِّ فَصَلَّى فَأَخَفَّ صَلاَتَهُ ثُمَّ انْصَرَفَ فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ وَعَلَيْكَ فَارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ ‏”‏ ‏.‏ فَرَجَعَ فَصَلَّى ثُمَّ جَاءَ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَقَالَ ‏”‏ وَعَلَيْكَ فَارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ ‏”‏ ‏.‏ فَفَعَلَ ذَلِكَ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا كُلُّ ذَلِكَ يَأْتِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَيُسَلِّمُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَيَقُولُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ وَعَلَيْكَ فَارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ ‏”‏ ‏.‏ فَخَافَ النَّاسُ وَكَبُرَ عَلَيْهِمْ أَنْ يَكُونَ مَنْ أَخَفَّ صَلاَتَهُ لَمْ يُصَلِّ فَقَالَ الرَّجُلُ فِي آخِرِ ذَلِكَ فَأَرِنِي وَعَلِّمْنِي فَإِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ أُصِيبُ وَأُخْطِئُ ‏.‏ فَقَالَ ‏”‏ أَجَلْ إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلاَةِ فَتَوَضَّأْ كَمَا أَمَرَكَ اللَّهُ ثُمَّ تَشَهَّدْ وَأَقِمْ فَإِنْ كَانَ مَعَكَ قُرْآنٌ فَاقْرَأْ وَإِلاَّ فَاحْمَدِ اللَّهَ وَكَبِّرْهُ وَهَلِّلْهُ ثُمَّ ارْكَعْ فَاطْمَئِنَّ رَاكِعًا ثُمَّ اعْتَدِلْ قَائِمًا ثُمَّ اسْجُدْ فَاعْتَدِلْ سَاجِدًا ثُمَّ اجْلِسْ فَاطْمَئِنَّ جَالِسًا ثُمَّ قُمْ فَإِذَا فَعَلْتَ ذَلِكَ فَقَدْ تَمَّتْ صَلاَتُكَ وَإِنِ انْتَقَصْتَ مِنْهُ شَيْئًا انْتَقَصْتَ مِنْ صَلاَتِكَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَكَانَ هَذَا أَهْوَنَ عَلَيْهِمْ مِنَ الأَوَّلِ أَنَّهُ مَنِ انْتَقَصَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا انْتَقَصَ مِنْ صَلاَتِهِ وَلَمْ تَذْهَبْ كُلُّهَا ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَعَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ عَنْ رِفَاعَةَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ ‏.‏
রিফাআ ইবনু রাফি (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
একদিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদে অবস্থান করছিলেন। রিফাআ (রাঃ) বলেন, আমরাও তাঁর সাথে ছিলাম। এমন সময় বিদুইনের বেশে এক ব্যক্তি আসল। সে সালাত আদায় করল, কিন্তু হালকাভাবে (তাড়াহুড়া করে, সালাতের রুকনসমূহ ঠিকভাবে আদায় না করে) সালাত শেষ করে সে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সালাম করল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমাকেও (সালাম), ফিরে গিয়ে আবার সালাত আদায় কর, কেননা তুমি সালাত পড়নি। সে ফিরে গিয়ে সালাত আদায় করল, তারপর এসে তাঁকে সালাম করল। তিনি পুনরায় বললেনঃ তোমাকেও (সালাম), ফিরে গিয়ে আবার সালাত আদায় কর, কেননা তুমি সালাত পড়নি। দুই অথবা তিনবার এরূপ হল। প্রত্যেকবার সে এসে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সালাম করল। আর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে থাকলেনঃ তোমাকেও (সালাম), ফিরে গিয়ে আবার সালাত আদায় কর, কেননা তুমি সালাত আদায় করনি। ব্যাপারটা লোকদের (সাহাবাদের) নিকট ভয়ানক ও অস্বস্তিকর মনে হল যে, যে ব্যক্তি হালকাভাবে সালাত আদায় করল তার সালাতই হল না। অবশেষে লোকটি বলল, আমাকে দেখিয়ে দিন, শিখিয়ে দিন, কেননা আমি তো একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নই, কখনও শুদ্ধ কাজ করি কখনও ত্রুটি করি। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, যখন তুমি সালাত আদায় করতে দাঁড়াও, তখন তিনি (আল্লাহ) তোমাকে যেভাবে ওযূ করার নির্দেশ দিয়েছেন সেভাবে ওযূ কর, তারপর তাশাহ্‌হুদ পাঠ কর (আযান দাও), তারপর ইকামাত বল। যদি তোমার কুরআন জানা থাকে তবে তা হতে পাঠ কর। অন্যথায়-’আলহামদুলিল্লাহ’ তাকবীর-’আল্লাহু আকবার’ তাহলীল-’লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ পাঠ কর, অতঃপর রুকূ কর, শান্তভাবে রুকূতে অবস্থান কর। তারপর রুকূ হতে সোজা হয়ে দাঁড়াও, তারপর সাজদাহ্‌য় যাও, ঠিকভাবে সাজদাহ্‌ কর, সাজদাহ্‌ হতে উঠে শান্তভাবে বস, তারপর উঠো। যদি তুমি এভাবে সালাত আদায় কর তবে তোমার সালাত পূর্ণ হল। যদি তুমি তাতে কোনরূপ ভুল কর তবে তোমার সালাতের মধ্যেই ভুল করলে। রাবী বলেন, পূর্বের কথার চেয়ে এই পরবর্তী কথাটা লোকদের (সাহাবাদের) নিকট সহজ লাগল। কেননা যে সালাতের মধ্যে কোনরূপ ভুল করল তার সালাত ভুল হল কিন্তু পরিপূর্ণ নামায নষ্ট হল না।
হাদীসের মান সহীহ্‌। হাদীসটি এসছে তিরমিযী (৩০২,১০৫৩) মিশকাত-(৮০৪), সিফাতুস সালাত (মূল), সহীহ্‌ আবূ দাঊদ-(৮০৩-৮০৭), ইরওয়া-(১/৩২১-৩২২), ইবনে খুযাইমা (৫৪৫), দারা কুতনী (১/৯৫), মুস্তাদারাকে হাকিম (১/২৪১)
একই হাদীস আবূ হুরাইরা (রাঃ) ও আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ)ও বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসেও কবদ্বের কথা আসেনি। এখানে রসূল (সাঃ) কিন্তু বলেন নি যে, তুমি যদি বাম হাতের উপর ডান হাত না রাখো, তাহলে সালাতে ভুল করলে।
৪/ আবূ মা’শারের এঁর হাদীসঃ
ذكر أبو يعلى في طبقات الحنابلة أَنَّ الإمام أحمد بن حنبل سئل عن حديث أبي معشر نهى رسول الله عن التكفير. ما هو التكفيرُ؟ فقال: التكفيرُ أَنْ يَضْعَ يمينه عند صدره في الصلاة وقال عبدالله ابن أحمد بن حنبل في مسائله: سألتُ أبي عن حديث أبي معشريُكْرَهُ التَّكْفِيرُ في الصَّلَاةِ. قال: التكفير أن يضع يمينه على شماله عند صدره في الصلاة
আবূ ইয়ালা তাঁর তবকাতুল হানাবিলায় উদ্ধৃত করেন যে, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলকে আবূ মা’শার (রাঃ) এঁর হাদীস যেখানে রসূল (সাঃ) সালাতের মধ্যে তাকফীর করতে নিষেধ করেছেন, এই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, তাকফীর কি? তিনি বললেনঃ তাকফীর হচ্ছে (সালাতে) বুকের কাছে বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা। আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ তাঁর মাসাইলে বলেনঃ আব্বাকে আমি আবূ মা’শার এঁর হাদীস যেখানে তিনি সালাতে তাকফীরকে ঘৃণা করতেন বলে বলা আছে, এই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ তাকফীর হচ্ছে সালাতে বুকের কাছে বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা।
(বাদাউইল ফাওয়াউইদ লিইবনুল কায়্যিম, ১/৬০১)
৫/ হাসান বসরীর হাদীসঃ
حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَيْمُونٍ، عَنِ الْحَسَنِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى أَحْبَارِ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَاضِعِي أيْمَانهُمْ عَلَى شَمَائِلِهِمْ فِي الصَّلَاةِ»
হাসান বসরী বলেন, (রসূল (সাঃ) মসজিদে মুসলিমদের সালাতের একটি জামাত দেখে) বললেনঃ “আমি যেন বনী ইসরাইলের পুরোহিতদেরকে সালাতে বাম হাতের উপর ডান হাত রাখতে দেখছি।”
মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, ৩৯৩৭। হাদীসটি মুরসাল এবং হাসান বছরীর মারাসিল সহীহ।
ইউসুফ ইবনে মাইমুনকে অনেক মুহাদ্দিস দ্বইফ বললেও আল বাজ্জার তাঁকে সহীহ বলেছেন। ইবনুল মুলাক্কিনের মতেও এই হাদীসের সনদ জায়্যিদ (উত্তম)।
অন্য জায়গায় হাসান বছরী নিজেই বলেনঃ “ আমি তোমাদেরকে যা কিছুই বলি যে, রসূল (সাঃ) বলেন, সেগুলো আলী (রাঃ) হতে (শুনেছি)।”
৬/ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) এঁর হাদীসঃ
أخرج الحافظ العراقي في كتابه: “البدور الملتمعة في أدلة الأئمة الأربعة” ( ما زال مخطوطا) فيما نقله عن كتاب: “منهاج الواردين في التفقه والدين“، قال: روى الأوزاعي عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: “ترك رسول الله صلى الله عليه وسلّم القبض في صلاة الفريضة قبل أن يفارق الدنيا ستة وثلاثين يوما وسدل يده في صلاة الفريضة“
আউযাঈ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ “ রসূল (সাঃ) মৃত্যুর ৩৬ দিন আগ থেকে ফারদ্ব সালাতে কবদ্ব করা ছেড়ে দেন এবং তিনি সালাতে হাতগুলোকে ছেড়ে দিতেন (সাদল করতেন)।”
আল বাদুর আল মুলতামায়া ফি আদিল্লাতিল আইম্মাহ আল আরবায়া, মিনহাজুল ওয়ারদাইন।
এই হাদীস থেকে বোঝা যায় যে, ফারদ্ব সালাতে কবদ্ব না করাই ছিল রসূল (সাঃ) এঁর জীবনের সর্বশেষ আমল। ইমাম মালিক (রঃ)ও মদীনাবাসীকে এরূপ করতেই দেখেছেন।
হাদীসটি মুরসাল এবং ইমাম আউযাঈর মারাসিল সহীহ। হাদীসটি মুসনাদে ইমাম আল আউযাঈ থেকে নকলকৃত। যদিও এই মুসনাদ অধুনা বিলুপ্ত। তবে, হাদীসটি অন্যান্য কিতাবের উদ্ধৃতির দরুণ আজো রয়েই গেছে।
রসূল (সাঃ) এঁর যুগের পর অর্থাৎ সাহাবী, তাবিঈ ও তাবি’ তাবিঈদের যুগে সাদলঃ

 

১/ ইমাম আহমাদের রিওয়াত (মুজতাহিদ ইমাম,মৃঃ২৪১ হি)ঃ
قال في الإنصاف46/2 وعنه: يُرْسِلُهُمَا مُطْلَقًا إلى جانبيه. وعنه: يرسلهما في النفل دون الفرض، وَنُقِلَ عن الخَلَّالِ: أنه أرسل يديه في صلاة الجنازة.
তিনি বলেন এবং তাঁর থেকে রিওয়াত হয়েছে যে, তিনি (তাঁর হস্তদ্বয়) দুপাশে মুক্তভাবে ছেড়ে দিতেন এবং তাঁর থেকে আরো এসছেঃ ফারদ্ব ব্যতীত নফল সালাতে দুহাত ছেড়ে দিতেন। এবং আল খাল্লাল থেকে তাঁর ব্যাপারে আরো নকল করা হয়েছে (নেয়া হয়েছে) যে, তিনি জানাযা সালাতে তাঁর হাত ছেড়ে দিতেন। (আল ইনসাফঃ ২/৪৬)
২/ইমাম শাফিয়ী (মুজতাহিদ ইমাম, মৃঃ ২০৪ হি)ঃ
قال الشافعي: القصد في القبض المذكور تسكين اليدين في الصلاة،فإن أرسلهما ولم يعبث فلا بأس
ইমাম শাফিয়ী বলেনঃ “যে কবদ্বের কথা বলা হয়েছে, তার উদ্দেশ্য হলো হস্তদ্বয়ের স্থিরতা, কেউ যদি এগুলো ছেড়ে দেয় এবং এতে করে সালাতে বিঘ্নতা না হয়, তবে কোন সমস্যা নেই। ” (আল উম্ম )
মদীনাঃ
৩/ সাইদ ইবনে মুসাইয়্যাব (তাবিয়ী, মদীনার সাত ফুক্বাহার একজন, মৃঃ ৯৪ হি)
قال ابن أبي شيبة: حدثنا عمر بن هارون، عن عبدالله بن يزيد، قال: ما رأيت ابن المسيب قابضًا يمينه في الصلاة كان يرسلهما، ونقله عنه ابن المنذر، وابن عبدالبر في التمهيد
ইবনে আবী শাইবা বর্ণনা করেন, আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ বলেনঃ “আমি ইবনে মুসাইয়্যাবকে কবদ্ব করা অবস্থায় সালাত আদায় করে দেখেনি, তিনি এগুলোকে (তাঁর হাত দুটোকে) ছেড়ে দিতেন। (ইবনে আবী শাইবাঃ ১/৩৪৪, হাদীস নংঃ ৩৯৫২), ইবনুল মুনযিরও এটা নকল করেছেন। (আল আওসাত, ৩/৯৩), ইবনু আব্দিল বারও এটা এনেছেন আত তামহীদে। (৭/২৪৬)
মক্কাঃ
৪/ ইবনে যুবাইর (রাঃ) (সাহাবী, মৃঃ ৭৩ হি)
قال ابن أبي شيبة حدثنا عفان، قال: حدثنا يزيد ابن إبراهيم قال: سمعت عمرو بن دينار، قال: كان ابن الزبير إذا صلى يرسل يديه. وروى ابن المنذر، عن ابن الزبير، والحسن البصري، والنخعي أنه يرسلهما ولا يضع اليمنى على اليسرى، ونقل ذلك الشوكاني في نيل الأوطار ونقله النووي عن الليث بن سعد. وقال ابن المنذر في الأوسط فَمِمَّن روينا عنه أنه كان يرسل يديه في الصلاة: عبدالله بن الزبير، والحسن البصري، وإبراهيم النخعي، وابن سيرين
ইবনে শাইবা আমরু ইবনে দীনারের সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ “ইবনে যুবাইর (রাঃ) সালাতে তাঁর হাতকে ছেড়ে দিতেন।” (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাঃ ৩৯৫০)। ইবনুল মুনযির ইবনে যুবাইর (রাঃ) থেকে রিওয়াত করেন এবং হাসান বসরী, ইব্রাহীম নখঈ সালাতে হাত ছেড়ে দিতেন এবং বাম হাতের উপর ডান হাত রাখতেন না।” শওকানী এটা নীলুল আওতারে (২/২০২) নকল করেছেন। ইবনুল মুনযির আল আওসাতে (৩/৯২) বলেনঃ আমরা যাদের থেকে রিওয়াত করেছি যে, তিনি সালাতে হাত ছেড়ে দিতেন, তাঁরা হলেন, ইবনুয যুবাইর (রাঃ), হাসান বসরী, ইব্রাহীম নখঈ ও ইবনে সীরীন।
৫/
وفي ترجمة ابن جريج عن أحمد بن حنبل، قال: حدثنا عبدالرزاق، قال: أهل مكة يقولون أخذ ابن جريج الصلاة عن عطاء، وأخذها عطاء عن ابن الزبير، وأخذها ابن الزبير عن أبي بكر، وأخذها أبو بكر عن النبي قال عبد الرزاق: وكان ابن جريج حسن الصلاة
ইবনে জুরাইজের তরজমায় আহমদ ইবনে হাম্বল থেকে এসছে, তিনি বলেনঃ আমাদেরকে আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন যে, আহ্লে মক্কা (মক্কার লোকেরা) বলে, ইবনে জুরাইজ সালাত নিয়েছেন আতা’ থেকে, আতা’ নিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাঃ) থেকে, আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর নিয়েছেন আবু বকর সিদ্দীক থেকে এবং আবু বকর নিয়েছেন নবী (সাঃ) থেকে। আব্দুর রাজ্জাক বলেনঃ ইবনে জুরাইজ সালাতের সৌন্দর্য ছিলেন। (তারীখে বাগদাদঃ ১০/৪০৪)
৬/ আবু উমামাহ আসয়াদ বিন সহল বিন হুনাইফ (রাঃ)ঃ (মৃঃ ১০০ হি)
روى أبو زرعة الدمشقي: حدثني عبد الرحمن بن إبراهيم، عن عبد الله بن يحيى المعافري، عن حيوة، عن بكر بن عمرو: أنه لم يَرَ أبا أمامة -يعني ابن سهل- واضعا إحدى يديه على الأخرى قط، ولا أَحَدًا من أهل المدينة حتى قدم الشام فرأى الأوزاعيَّ وناسا معه يضعونه
আবু যুরআ আদদিমাশকী বকর ইবনে আমরের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি (বকর) আবু উমামাহ অর্থাৎ ইবনে সহলকে এক হাতের উপর আরেক হাতকে রাখতে দেখেননি এবং আহ্লে মদীনার (মদীনার লোকদের)ও কাউকে দেখেননি, যতক্ষণ না শামে আসলেন। তখন তিনি আউযাঈ ও তাঁর সাথের লোকেদের (এক হাতের উপর আরেক হাত) রাখতে দেখলেন। (তারীখে আবূ যুরআ আদ দামিশকীঃ ৩১৯ পৃঃ, ১৭৯৫ ও তারীখে দামিশক, ১০/৩৮৪)
৭/ আতা’ বিন আবী রাবাহ ( তাবিয়ী, মৃঃ ১১৫ হি)
روى عبدالرزاق عن ابن جريج، عن عطاء: أنه كان يكره أن يجعل الرجل يده اليسرى إلى جنبه، ويجعل كفه اليمنى بين عضده اليسرى، وبين جنبه، وكره أن يقبض بكفه اليمنى على عضده اليسرى، أو كفه اليسرى على عضده اليمنى
আব্দুর রাজ্জাক ইবনে জুরাইজ থেকে রিওয়াত করেন যে, আতা’ কোন লোকের বাম হাতকে পাশে ঝুলিয়ে রাখা অথবা ডান হাতের তালুকে বাম হাতের উপরে রাখা, দুপাশে রাখাকে অপছন্দ করতেন। এবং তিনি ডান হাতের তালু দিয়ে বাম হাতকে ধরা (কবদ্ব করা) অথবা বাম হাতের তালু দিয়ে ডান হাতের উপর কবদ্ব করাকে অপছন্দ করতেন। (২/২৭৬, হাদীস নংঃ ৩১১)
৮/ ইবনে জুরাইজ (তাবে তাবিয়ী, মৃঃ ১৫০ হি, ইমাম আবূ হানিফার সমসাময়িক)
قال عبدالرزاق: ورأيت ابن جريج يصلي في إزار ورداء مسبل اليدين
আব্দুর রাজ্জাক বলেনঃ আমি ইবনে জুরাইজকে দেখেছি তিনি ইযার ও একপ্রকার গাউন জাতীয় পোশাক পরে হাত নিচে নামিয়ে সালাত আদায় করছেন। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকঃ ২/২৭৬, ৩৩০৪৬, আত তামহীদঃ ৭/২৪৫)
৯/ মুজাহিদ বিন জাবর (তাবিয়ী, মৃঃ ১০৪ হি)
روى ابن أبي شيبة عن ليث بن أبي أسلم عن مجاهد: أنه كان يكره أن يضع اليمنى على الشمال، يقول: على كفه، أو على الرُّسْغِ، ويقول: فوق ذلك، ويقول: أهل الكتاب يفعلونه
ইবনে আবী শাইবা রিওয়াত করেন যে, মুজাহিদ ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখাকে অপছন্দ করতেন। তিনি বলেনঃ তালুর উপর অথবা কব্জির উপর ও বলেনঃ তারো উপরে। তিনি বলেনঃ আহ্লে কিতাবগণ (ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা) এরূপ করে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাঃ ১/৩৪৩, হাদীস নংঃ ৩৯৪৭)
বসরাঃ
১০/ হাসান আল বাসরী (তাবিয়ী, মুজতাহিদ ইমাম, মৃঃ ১১০ হি)
قال ابن أبي شيبة حدثنا أبو بكر، قال: حدثنا هشيم، عن يونس، عن الحسن ومغيرة، عن إبراهيم: أنهما كانا يرسلان أيديهما في الصلاة. وقال ابن عبد البر: وروي عن الحسن وإبراهيم أنهما كانا يرسلان أيديهما في الصلاة وقال ابن المنذر في الأوسط فممن روينا عنه أنه كان يرسل يديه: عبدالله بن الزبير، والحسن البصري، وإبراهيم النخعي، وابن سيرين. وزاد النووي في المجموع وحكاه القاضي أبو الطيب أيضًا عن ابن سيرين
ইবনে আবী শাইবা রিওয়াত করেন যে, হাসান বসরী ও ইব্রাহীম নখঈ সালাতে তাঁদের হাত ছেড়ে দিতেন। (১/৩৪৪, হাদীস নংঃ ৩৯৪৯) ইবনে আব্দিল বারও একই রিওয়াত করেছেন। (আত তামহীদ ৭/২৪৬) ইবনুল মুনযির আল আওসাতে বলেনঃ ” যাদের থেকে আমরা রিওয়াত করেছি যে, তাঁরা সালাতে হাত ছেড়ে দিতেন, তাঁরা হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর, হাসান বসরী, ইব্রাহীম নখঈ, ইবনে সীরীন (৩/৯২)। ইমাম নববী তাঁর মাজমূতে অতিরিক্ত বলেছেন যে, তাকে আবুৎ তাইয়্যিব ইবনে সীরীন থেকে অনুরূপ বলেছেন। (৩/২৬৮)
১১/ মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন (তাবিয়ী, মৃঃ ১১১ হি)
قال ابن أبي شيبة في مصنفه حدثنا ابن علية، عن عون، عن ابن سيرين أنه سئل عن الرجل يمسك يمينه بشماله، قال: إنما فعل ذلك من أجل الدم
ইবনে আবী শাইবা তাঁর মুসান্নাফে রিওয়াত করেনঃ “ ইবনে সীরীনকে এমন এক লোক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল যে, ডান হাত বাম হাতের উপর রাখে। তিনি বলেনঃ ” যে এটা করেছে সে রক্তের জন্যে করেছে।” (১/৩৪৪)
কূফাঃ
১২/ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ), (সাহাবী, মৃঃ ৫৫ হি)
عن الزهري عن حماد عن إبراهيم: “أن ابن مسعود كان يرفع يديه في الوتر ثم يرسلهما بعد”.
أخرجه عبدالرزاق في المصنف (4/325، تحت رقم 7952). وإسناده صحيح لأن مراسيل إبراهيم عن ابن مسعود صحيحة. من طريق أبي عيسى محمد بن عيسى بن سورة الترمذي الحافظ ، قال : حدثنا أبوعبيدة بن أبى السفر الكوفى ، قال : حدثنا سعيد بن عامر عن شعبة عن سليمان الأعمش ، قال : قلت لإبراهيم النخعي : اسند لي عن عبد الله بن مسعود؟ فقال إبراهيم : إذا حدثتكم عن رجل عن عبد الله فهو الذي سمعت، و إذا قلت : قال عبد الله : فهو عن غير واحد عن عبد الله”اهـ .
যুহরী হাম্মাদ থেকে, তিনি ইব্রাহীম নখঈ থেকে বর্ণনা করেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বিতর সালাতে তার হাত তুলতেন, তারপর ছেড়ে দিতেন। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ৩২৫, হাদীস নং ৭৯৫২) এই হাদীসের সনদ সহীহ কারণ, ইব্রাহীম থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) এর মুরসালগুলো সহীহ। ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেন, সুলাইমান বলেনঃ আমি ইব্রাহীম নখঈকে বললাম, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে আমাকে এব্যাপারে সনদ বর্ণনা করুন। ইব্রাহীম বললেনঃ ” যদি আমি একজন লোক থেকে শুনে তোমাদের কাছে বর্ণনা করি, তাহলে আমি সেটা (ঐ রাবী থেকে) শুনেছি। কিন্তু আমি যদি বলি, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন; তাহলে সেটা উনার থেকে একাধিক লোকের মাধ্যমে আমার শোনা”।
**এছাড়া মুহাদ্দিসীনে কিরাম একমত যে, ইব্রাহীম নখঈ (রঃ) এঁর সমস্ত মারাসিল সহীহ।
১৩/সাইদ ইবনে যুবাইর (তাবিয়ী, মৃঃ ৯৫ হি)
قال ابن أبي شيبة حدثنا يحيى بن سعيد، عن عبدالله بن العيزار، قال كنت أطوف مع سعيد بن جبير، فرأى رَجُلًا وَاضِعًا إحدى يديه على الأخرى هذه .( على هذه، وهذه على هذه، فذهب ففرق بينهما ثم جاء
قال ابن أبي شيبة حدثنا يحيى بن سعيد، عن عبدالله بن العيزار، قال كنت أطوف مع سعيد بن جبير، فرأى رَجُلًا وَاضِعًا إحدى يديه على الأخرى هذه .( على هذه، وهذه على هذه، فذهب ففرق بينهما ثم جاء
ইবনে আবী শাইবা আব্দুল্লাহ বিন আল-আইযার থেকে রিওয়াত করেন, তিনি বলেনঃ ” আমি সাইদ ইবনে যুবাইরের সাথে হাঁটছিলাম। তিনি একজন লোককে এক হাতের উপর আরেক হাত রেখে কবদ্ব করতে দেখলেন। তিনি গেলেন এবং (হাত দুটো) ছাড়িয়ে দিলেন, তারপর আসলেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাঃ ১/৩৪৪, ইবনে মুনযিরের আল আওসাতঃ ৩/৯২,ইবনে আব্দিল বারের আত তামহীদঃ ৭/২৪৬)
১৪/ ইব্রাহীম নখঈঃ (তাবিয়ী, মৃঃ ৯৬ হিজরী)
قال عبدالرزاق عن الثوري وهشيم أو أحدهما، عن مغيرة، عن إبراهيم إنه كان يصلي مُسْدِلًا يديه. ونقل ذلك: ابن أبي شيبة، وابن عبدالبر، وابن المنذر
আব্দুর রাজ্জাক তাঁর মুসান্নাফে বলেনঃ ছওরী ও হিশাম অথবা তাদের একজন থেকে,তাঁরা মুগীরা থেকে, তিনি ইব্রাহীম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি সাদল করে (হাত ঝুলিয়ে রেখে) সালাত আদায় করতেন। (২/২৭৬), এবং এটা নকল করেছেন ইবনে আবী শাইবা (১/৩৪৪, হাদীস নংঃ ৩৯৫১) , ইবনে আব্দিল বার (আত তামহীদ ৭/২৪৬), ইবনুল মুনযির (আল আওসাত ৩/৯২)। এছাড়াও এটা নাইলুল আওতার (২/২০১) ও আল মাজমূ লিন্নাবুয়ীতে (৩/২৬৮) আছে।
মিশরঃ
১৫/লাইছ ইবনে সা’দ (মুজতাহিদ ইমাম, মৃঃ ১৭৫ হিজরী)
قال ابن عبدالبر في التمهيد ذهب مالكٌ في رواية ابن القاسم عنه، والليثُ ابْنُ سعد إِلى سَدْلِ اليدين في الصلاة؛ وقال الليثُ: سَدْلُ اليدين في الصلاة أَحَبُّ إِلَيَّ، إلَّا أن يُطِيلَ القيامَ فَيَعْيَا فلا بأس أن يضع اليمنى على اليسرى.اه. وقال النووي في شرح صحيح مسلم إِنَّ روايةَ الإرسال عن مالك هي مذهب الليث بن سعد وفي المجموع وقال الليث بن سعد: يرسلهما، فإن طال ذلك عليه وضع اليمنى على اليسرى للاستراحة
ইবনে আব্দিল বার আত তামহীদে (৭/২৪৫) বলেনঃ ” ইমাম মালিক ইবনুল কাসিমের রিওয়াতে ও লাইছ ইবনে সাদ সালাতে সাদলের পক্ষেই গেছেন। এবং লাইছ বলেনঃ ” সাদলুল ইয়াদাইন অর্থাৎ সালাতে হাত ঝুলিয়ে রাখাই আমার নিকটে অধিক প্রিয়, এটা ছাড়া যে, সালাতে কিয়াম লম্বা হয়ে গেল, তখন বাম হাতের উপর ডান হাত রাখতে কোন সমস্যা নেই। নববী তাঁর মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থে (৪/১৪৪) বলেনঃ ” ইমাম মালিক থেকে ইরসালের যে রিওয়াত হয়েছে, সেটাই লাইছ ইবনে সাদের মাযহাব।” আল মাজমূতে (৩/২৬৮) বলেনঃ লাইছ ইবনে সাদ বলেনঃ ” সে ইরসাল করবে, যদি সেটা তার উপর লম্বা হয়ে যায় তবে আরামের জন্যে বাম হাতের উপর ডান হাত রাখতে পারে।”
শামঃ
১৬/ আল আউযাঈ (মুজতাহিদ ইমাম, মৃঃ ১৫৭ হিজরী)
قال الشوكاني في نيل الأوطار نقل ابن سيد الناس عن الأوزاعي التخيير بين الوضع والإرسال. وقال ابن عبدالبر في التمهيد قال الأوزاعي: مَنْ شَاءَ فَعَلَ، وَمَنْ شَاءَ تَرَكَ، وهو قول عطاء. وفي المبسوط لأبي بكر السرخسي الحنفي: كان الأوزاعي يقول: يُخَيَّرُ المصلي بين الاعتماد والإرسال، وكان يقول: إنما أُمِرُوا بالاعتماد إِشْفَاقًا عليهم؛ لأنهم كانوا يُطَوِّلُونَ القيامَ؛ فكان يَنْزِلُ الدَّمُ رُؤُوسَ أصابعهم إذا أرسلوا، فقيل لهم: لو اعتمدتم لا حرج عليكم
আশ শওকানী নাইলুল আওতারে (২/১৯৩) বলেনঃ ইবনে সাইদুন নাস আউযাঈ থেকে হাতের উপর হাত রাখা অথবা হাত ছেড়ে দেয়ার মধ্যে ইখতিয়ারের ব্যাপারে রিওয়াত নকল করেছেন। ইবনে আব্দিল বার আত তামহীদে (৭/২৪৫) বলেনঃ ” আউযাঈ বলেন, যার ইচ্ছে (সাদল) করবে, যার ইচ্ছে ছেড়ে দেবে।” এটা আতার ক্বওল আবূ বকর সারখাসী আল হানাফীর আল মাসবূতে (১/১১২) এসছেঃ ” আউযাঈ বলতেন, মুসল্লী হাত ধরে রাখা ও ছেড়ে দেয়ার মধ্যে নির্বাচন করবে (যে কোনটা করবে)। তিনি আরো বলতেন যে, মানুষকে নম্রতার প্রকাশ হিসেবে হাত ধরার আদেশ দেয়া হয়েছিল কারণ, কারণ তাঁরা ক্বিয়াম লম্বা করতেন, তাই যখন হাত ছেড়ে দিয়ে রাখতেন, রক্ত আঙ্গুলের মাথায় নেমে আসতো। তাই তাদের বলা হলোঃ ” যদি তোমরা হাত বাঁধো, এতে তোমাদের কোন সমস্যা নেই।”
 
 

 

সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

Dhaka

ইফতার: Loading...

সেহরীর শেষ সময়: Loading...