শুরুতুস সালাহ (সালাত হওয়ার শর্তাবলি)ঃ
সালাতের শর্তগুলোকে আমরা দুভাগে ভাগ করতে পারি।
১/ সালাতের বাইরের শর্ত,
২/ সালাতের ভেতরের শর্ত বা সালাত হওয়ার জন্যে শর্ত।
সালাতের বাইরের শর্তগুলো হলঃ
১/মুসলিম হওয়া, ২/ বালিগ হওয়া, ৩/ বেহুঁশ না হওয়া, ৪/ সালাতের ওয়াক্ত হওয়া, ৫/ ইসলামের দাওয়াত পৌঁছা (অমুসলিমদের জন্য)
সালাত হওয়ার জন্যে শর্তগুলো হলঃ
১/ হাদাছের অপবিত্রতা থেকে মুক্ত হওয়া (গভীর ঘুম, বায়ুত্যাগ), ২/ খুবছের অপবিত্রতা থেকে মুক্ত হওয়া (রক্ত, বীর্য, মল-মূত্র), ৩/ নগ্নতা ঢাকা, ৪/ কিবলামুখী হওয়া, ৫/ কথা না বলা, ৬/ অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া পরিহার করা।
সালাতের বর্ণনাঃ
দিবা রাত্রিতে সুবহ, যুহর, আসর, মাগরিব ও ঈশা; সর্বমোট ৫ ওয়াক্ত সালাত ফারদ্ব।
ধাপে ধাপে সালাত আদায়ের পদ্ধতি নিম্নরূপঃ
১/ নিয়্যাত করা (ফারদ্ব)
২/ তাকবীরে তাহরীমা বা শুরুর তাকবীর বলা (ফারদ্ব)
৩/ তাকবীরে তাহরীমার জন্যে দাঁড়ানো (ফারদ্ব)
৪/ তাকবীর জোরে বলা এবং তাকবীরের জন্য কাঁধ বা কানের লতি পর্যন্ত হাত উঠানো (মানদূব বা প্রশংসনীয়)
৫/ হাত ঝুলিয়ে রাখা বা সাদল করা (মানদূব)
৬/ প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা ও এসময় দণ্ডায়মান থাকা (ফারদ্ব x২)
৭/ সূরা ফাতিহা শেষে ‘আমীন’ বলা ও নীরবে বলা (মানদূব x২)
৮/ সূরা ফাতিহার পর যেকোন সূরা বা কুরআনের আয়াত পাঠ এবং এসময় দাঁড়িয়ে থাকা (সুন্নাত x২)
৯/ রুকুর জন্যে তাকবীর দেয়া (সুন্নাত) এবং সেটা রুকুতে যেতে যেতে দেয়া (মানদূব)
১০/ রুকু করা (ফারদ্ব) এবং এসময় হাতের তালু দিয়ে হাঁটু ধরা (মানদূব)
১১/ রুকুতে স্থির থাকা (ফারদ্ব) , রুকুতে ‘সুবহানা রব্বিয়াল আযীম ও বিহামদিহি বলা (মানদূব)
১২/ রুকু থেকে উঠে দাঁড়িয়ে স্থির হয়ে দাঁড়ানো (ফারদ্ব x৩), এসময় ‘সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলা (সুন্নাত)
১৩/ দাঁড়িয়ে স্থির হয়ে ‘রব্বানা ওয়ালাকাল হামদ’ বলা। (মানদূব)
১৪/ সিজদার তাকবীর দেয়া (সুন্নাত)
১৫/ সিজদায় কপাল মাটিতে ঠেকানো (ফারদ্ব), নাক মাটিতে লাগানো (মানদূব)
১৬/ সিজদায় স্থির থাকা (ফারদ্ব) , সিজদায় ‘সুবহানা রব্বিয়াল আলা’ বলা ও দোয়া করা (মানদূব)
১৭/ সিজদা থেকে উঠার তাকবীর দেয়া (সুন্নাত) ও উঠে সোজা হয়ে বসা (ফারদ্ব)
১৮/ দুই সিজদার মাঝখানে বসা ও স্থির হয়ে বসা (ফারদ্ব x২)
১৯/ দ্বিতীয় সিজদা করা ( ফারদ্ব)
২০/ দ্বিতীয় রাকাতে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে তাকবীর দেয়া (সুন্নাত)
[ দ্বিতীয় রাকাতের দ্বিতীয় সিজদা পর্যন্ত উপরোক্ত ধাপগুলোর পুনরাবৃত্তি হবে। ]
২১/ দ্বিতীয় রাকাতের দ্বিতীয় সিজদার পর তাশাহুদের জন্যে বসা ও তাশাহুদ পড়া ( সুন্নাত x২)
২২/ পরবর্তী রাকাতের জন্যে উঠে দাঁড়াতে তাকবীর দেয়া (সুন্নাত)
[ ৩য় ও ৪র্থ রাকাতও অনুরূপভাবে আদায় করতে হবে। শুধু সূরা ফাতিহার পর অন্য কোন সূরা বা আয়াত মেলাতে হবে না। মেলালে সালাত মাকরূহ হবে। ২য় তাশাহুদ পর্যন্ত যেতে হবে। ]
২৩/ ২য় তাশাহুদের পর রসূল (সাঃ) এঁর উপর সালাওয়াত (দরূদ) পাঠ করা (সুন্নাত)
২৪/ সালাওয়াতের পর দোয়া পাঠ করা এবং সালাম ফেরানোর আগ পর্যন্ত দোয়া পাঠ করতে থাকা (মানদূব)
২৫/ সালামের জন্যে বসা এবং নিজের ডানদিকে একবার মাত্র সালাম ফেরানো (ফারদ্ব x২), জোরে সালাম পাঠ করা (সুন্নাত)
২৬/ মুক্তাদী ইমামকে ও তার বামে বসে থাকা ব্যক্তিকে সালাম দেবে। বামের সালাম মুক্তাদীর জন্যে সুন্নাত।
যুহর, আসর, মাগরিব ও ঈশার সালাত এভাবেই আদায় করবে। সিজদার সময় উরুর সাথে পেট লাগিয়ে রাখা ও জড়সড় হয়ে সিজদা দেয়া ব্যতীত মালিকী মাযহাবে নারী পুরুষের সালাতে অন্যকোন পার্থক্য নেই।
‘সুবহ’ সালাতে দ্বিতীয় রাকাতে সূরা পাঠ শেষে ‘দোয়া কুনুত’ পাঠ করবে। (মানদূব)
উল্লেখ্য, হানাফী ও হাম্বলীরা যে ফরয সালাতকে ‘ফজর’ সালাত বলে, শাফিয়ীরা ও আমরা একে ‘সুবহ’ সালাত বলি। এই ফরয সালাতের আগে যে দুই রাকাত সালাত সুন্নাত, সেটাকে আমরা ‘ফজর’ বলি। এই সালাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা পাঠ করা হয় না।
‘বিতর’ সালাতে দুই রাকাত শাফউ (জোড়) সালাত আদায় করে তাশাহুদ, সালাওয়াত শেষ করে সালাম ফেরাবে। তারপর দাঁড়িয়ে এক রাকাত সালাত আদায় করবে। এটাই বিতর (বেজোড়) সালাত। শাফউ নফল, বিতর সুন্নাত। কেউ বিতর সালাত আদায় না করলে আদালতে তার সাক্ষ্য গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
নফল সালাতের রাকাত সংখ্যাঃ
সুবহ সালাতের পূর্বে ২ রাকাত ফজর সালাত সুন্নাতে রাগিবাহ (খুবই পছন্দনীয়, অতি উত্তম)।
যুহর ৪ রাকাত ফরয সালাতের পূর্বে ২ রাকাত কিংবা ৪ রাকাত সালাত নফল।
যুহর ৪ রাকাত ফরয সালাতের পর ২ রাকাত কিংবা ৪ রাকাত সালাত নফল।
আসর ৪ রাকাত ফরয সালাতের পূর্বে ২ রাকাত কিংবা ৪ রাকাত সালাত নফল।
মাগরিব ৩ রাকাত ফরয সালাতের পর ২/৪/৬ রাকাত সালাত নফল।
ঈশা ৪ রাকাত ফরয সালাতের পূর্বে ২ রাকাত কিংবা ৪ রাকাত সালাত নফল।
ঈশা ৪ রাকাত ফরয সালাতের পর ২ রাকাত সালাত নফল।
জুমার ২ রাকাত সালাত পুরুষদের উপর ফারদ্ব, দুই ঈদের সালাত পুরুষদের উপর সুন্নাত। এক্ষেত্রে ঈদের সালাতে ১ম রাকাতে তাকবীরে তাহরীমা সহ সূরা ফাতিহা তিলাওয়াতের পূর্বে ৭ তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহা তিলাওয়াতের পূর্বে ৫ তাকবীর দেবে।
এই মোট ১২ তাকবীর অতিরিক্ত দিতে হবে।
সালাত ভেঙ্গে দেয় যেগুলো (নাওয়াকিদুস সালাত)ঃ
নিয়্যাত ছেড়ে দেয়া, সন্দেহ থাকা অবস্থায় সালাম ফেরানো, সালাতের মধ্যে কথা বলা, সশব্দে হাসা, সালাতের কোন একটি রুকন ছাড়া বা অতিরিক্ত করা যেমনঃ কোন রাকাতে ৩ বার সিজদা দেয়া। ইচ্ছাকৃত কিছু খাওয়া, ইমামকে লোকমা দিতে গিয়ে অতিরিক্ত কথা বলা। সামনে এমন কিছু থাকা যেটা সালাত থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়। সালাত আদায়কারীর উপর অপবিত্র কিছু পড়া, কিংবা কোন নগ্নতা প্রকাশ হয়ে যাওয়া। এছাড়াও যেসব কারণে অযু ভেঙ্গে যায়, সেগুলো সালাত ভঙ্গেরও কারণ। ওয়াল্লাহু আলাম।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ।
ইংরেজি রেফারেন্সঃ
1/ Matn Al Ashmayyiah
2/ Al Murshid Al Muin Translation & Commentary on selected sections: Dr. Abdullah bin Hamid ali.
3/ 140 acts of Prayer: Dr. Nayef Al Mubarak.
4/The practical guidebook of essential Islamic sciences: Shaykh Ali Laraki al-Husaini